Notification texts go here Contact Us Buy Now!
পোস্টগুলি

৪৭ বছর আগের ভয়ংকর এক খুনের গল্প

খায়েরি শাড়ি আর নকশা করা স্যান্ডেলসহ বিশ্ববিদ্যালয়ছাত্রী নীহারের লাশ পুঁতে ফেলে খুনিরা 


হত্যা মামলার রায় ঘোষণার পর ১৯৭৭ সালের সেপ্টেম্বরে নীহার বানু হত্যাকাণ্ড নিয়ে প্রচ্ছদ কাহিনি প্রকাশ করেছিল সাপ্তাহিক বিচিত্রা। এর আলোকে ৪৭ বছর আগের আলোচিত এই হত্যাকাণ্ড-সম্পর্কিত তথ্যগুলো প্রথম আলোর পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো।বিচিত্রার প্রচ্ছদ কাহিনিটি লিখেছিলেন তৎকালীন দৈনিক বাংলার রাজশাহী প্রতিনিধি শফিউদ্দিন আহমেদ। সংবাদপত্রে নীহার বানুকে হত্যার ঘটনায় তিনিই প্রথম প্রতিবেদন প্রকাশ করেন।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে মিনা মঞ্জিল নামের বাড়িটির উঠানে সেদিন শত শত মানুষের ভিড় জমেছিল। পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) সদস্যরা ওই বাড়ির আঙিনায় সিমেন্ট দিয়ে ঢালাই করা জায়গাটি খুঁড়ে সেদিন এক নারীর গলিত লাশ উদ্ধার করেছিলেন। খয়েরি শাড়ি, কারুকাজ করা স্যান্ডেল দেখে শনাক্ত হয় সেটি ছিল রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী নীহার বানুর লাশ।


সহপাঠী আহমেদ হোসেন বাবুর বিয়ের প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় তাঁকে নির্মমভাবে খুন করে পুঁতে ফেলা হয়েছিল। ভয়ংকর ঘটনাটি বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার কয়েক বছর পরেই ঘটে। বাংলাদেশের স্বাধীনতা-পরবর্তী সময়ে এটিকে প্রথম আলোচিত অরাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনা বলে বিবেচনা করা হয়ে থাকে। মিনা মঞ্জিলে ১৯৭৬ সালের ২৭ জানুয়ারি খুন হন নীহার বানু। আর সেই বছর ১২ জুন তাঁর লাশ উদ্ধার করা হয়।


নীহারের লাশ উদ্ধারের সময় তাঁর পায়ে থাকা স্যান্ডেলে লাল-সবুজের কারুকাজ তখনো বোঝা যাচ্ছিল। গলায় ঝুলছিল চারকোনা রুপার তাবিজ। সাড়ে চার মাসে নীহারের লাশ তখন কঙ্কালে পরিণত হয়েছে।


এ ঘটনায় ১৯৭৭ সালে নীহারের সহপাঠী আহমেদ হোসেন বাবুসহ তিনজনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। আহমেদ হোসেন বাবুর বাড়ি রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার বানিয়াটিরি গ্রামে। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের মধ্যে প্রধান আসামি বাবু ও আহসানুল পলাতক থেকে যান।


কে এই নীহার বানু

১৯৭৫ সালের দিকে স্টুডিওতে তোলা নীহার বানুর ছবি

১৯৭৫ সালের দিকে স্টুডিওতে তোলা নীহার বানুর ছবিছবি: মুক্তিযুদ্ধ ই-আর্কাইভ থেকে সংগৃহীত

দিনাজপুরের চিরিরবন্দরে ১৯৫৩ সালের ৯ জানুয়ারি নীহার বানুর জন্ম। তাঁর বাবা নজীবুর রহমান ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে পাকিস্তানি বাহিনীর হাতে শহীদ হন। নজীবুর রহমান রাজশাহী কো-অপারেটিভ অফিসের সহকারী রেজিস্ট্রার ছিলেন। পাঁচ বোন এক ভাইয়ের মধ্যে নীহার ছিলেন দ্বিতীয়। বাবার মৃত্যুর পর নীহারের বড় বোন মঞ্জিলা বেগম পরিবারের দেখাশোনা করতেন। তিনি ছিলেন পেশায় চিকিৎসক। বাড়ি দিনাজপুরে হলেও তাঁরা রাজশাহীতে থাকতেন।


১৯৭৬ সালে নীহার স্নাতকোত্তর পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। নওগাঁর এক প্রকৌশলীর সঙ্গে তাঁর বিয়েও ঠিক হয়েছিল।

Cookie Consent
We serve cookies on this site to analyze traffic, remember your preferences, and optimize your experience.
Oops!
It seems there is something wrong with your internet connection. Please connect to the internet and start browsing again.
AdBlock Detected!
We have detected that you are using adblocking plugin in your browser.
The revenue we earn by the advertisements is used to manage this website, we request you to whitelist our website in your adblocking plugin.
Site is Blocked
Sorry! This site is not available in your country.